রোমানিয়া কাজের বেতন কত টাকা ২০২৬ (আজকের আপডেট)

রোমানিয়া যেতে চাচ্ছেন কিন্তু রোমানিয়া কাজের বেতন কত টাকা জানেন না? বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া গিয়ে প্রতি মাসে কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন এসব তথ্য জানতে পারবেন এখানে।

বাংলাদেশ থেকে অনেকেই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে রোমানিয়া যান টাকা উপার্জন করার উদেশ্যে। রোমানিয়াতে বিভিন্ন কাজের ভিসা নিয়ে যাওয়া যায়। এগুলোর মাঝে কন্সট্রাকশন কাজের ভিসা, ওয়েল্ডিং কাজের ভিসা, ইলেকট্রিক কাজের ভিসা, ড্রাইভিং ভিসা এবং ফুড ডেলিভারি ভিসা অন্যতম।

তবে, কোন কাজের জন্য কত টাকা বেতন পাওয়া যায় তা অনেকেরই অজানা। তো চলুন, রোমানিয়াতে কোন কাজের বেতন কত টাকা এসব বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

রোমানিয়া কাজের বেতন কত টাকা

রোমানিয়াতে একজন নতুন কর্মী প্রতি মাসে ৫৫০ থেকে ৯০০ ইউরো অব্দি উপার্জন করতে পারে। সাধারণত অদক্ষ এবং নতুন কর্মীদের বেতন এমন হয়ে থাকে। দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কর্মীদের বেতন এর থেকে বেশি হয়ে থাকে। নতুন কর্মী হিসেবে প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অব্দি ইনকাম করা যায়।

অনেকেই ইতালিতে প্রবেশের ইচ্ছে থেকে রোমানিয়ার ভিসা করে থাকে। কারণ, রোমানিয়ার তুলনায় ইতালিতে বিভিন্ন কাজের বেতন অনেক বেশি। তবে, একজন কর্মী ইতালি যাওয়ার তুলনায় অর্ধেক খরচে রোমানিয়া আসতে পারবে এবং প্রতি মাসে ১ লাখ টাকার বেশি ইনকাম করতে পারবে।

তবে, রোমানিয়াতে কাজের ধরণের উপর নির্ভর করে বেতন নির্ধারিত হয়। কাজের চাহিদা, কাজের ধরণ এবং কর্মীর দক্ষতার উপর ভিত্তি করে বেতন কম বা বেশি হয়। রোমানিয়াতে কোন কাজের বেতন কত টাকা তা নিচে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন।

রোমানিয়া ওয়েল্ডিং কাজের বেতন কত

রোমানিয়া ওয়েল্ডিং কাজের বেতন ৮০০ থেকে ১১০০ ইউরো অব্দি হয়ে থাকে যা বাংলাদেশি টাকায় ১,১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। ওয়েল্ডিং কাজের চাহিদা অন্যান্য কাজের তুলনায় কিছুটা বেশি এবং বেতনও বেশি। তবে, ওয়েল্ডিং কাজের ক্ষেত্রে কর্মীর অভিজ্ঞতা দেখে তবেই নিয়োগ দেয়া হয়।

অভিজ্ঞতা না থাকলে ওয়েল্ডিং কাজে সাধারণত ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায়না। এক্ষেত্রে ১ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেও ওয়েল্ডিং কাজের ভিসা করা যায়। আবার কাজের উপর দক্ষতা থাকলে বেতন শুরুতেই অনেক বেশি পাওয়া যায় এবং ধীরে ধীরে প্রমোশন পেয়ে বেতন বৃদ্ধির সুযোগ থাকে।

রোমানিয়া ইলেকট্রিক কাজের বেতন কত

রোমানিয়াতে ইলেকট্রিক কাজের বেতন ৭৫০ থেকে ১০০০ ইউরো অব্দি হয়ে থাকে যা বাংলাদেশি টাকায় ১,১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,৪০,০০০ টাকা অব্দি হয়। সাধারণত ইলেকট্রিক কাজের জন্য প্রশিক্ষণ নিয়ে তারপর ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। তবে, পূর্বের অভিজ্ঞতা এবং কাজের প্রতি দক্ষতা থাকলে বেতন আরও বেশি পাওয়া যায়।

রোমানিয়া ড্রাইভিং ভিসা বেতন কত

রোমানিয়াতে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির ড্রাইভিং কাজ করা যায় এবং প্রতি মাসে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ ইউরো অব্দি ইনকাম করা যায়। যা বাংলাদেশি টাকায় ১,৪০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,১০,০০০ টাকা অব্দি হয়ে থাকে। রোমানিয়াতে কী ধরণের গাড়ির ড্রাইভিং কাজ করছেন তার উপর ভিত্তি করে বেতন কমবেশি হয়ে থাকে।

সাধারণত প্রাইভেট কারের ড্রাইভিং কাজে বেতন কিছুটা কম থাকে। তবে, বিভিন্ন কোম্পানির ভারী যানবাহনের ড্রাইভিং করলে প্রতি মাসে ১,৫০০ ডলার অব্দি ইনকাম করা যায়।

রোমানিয়া ফুড ডেলিভারি বেতন কত

রোমানিয়াতে ফুড ডেলিভারি করেও প্রতি মাসে ভালো পরিমাণ টাকা কামানো সম্ভব। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই রোমানিয়া গিয়ে বিভিন্ন কোম্পানিতে ফুড ডেলিভারির কাজ করছে। তারা প্রতি মাসে ৬০০ থেকে ৯০০ ইউরো অব্দি ইনকাম করা থাকে। যা বাংলাদেশি টাকায় ৯০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,২০,০০০ টাকা অব্দি হয়ে থাকে।

ফুড ডেলিভারি কাজের বেতন অন্যান্য কাজের তুলনায় কিছুটা কম। তবে, ফুড ডেলিভারির কাজে ওভারটাইম করার সুযোগ থাকে এবং আপনি যত বেশি ডেলিভারি দিতে পারবেন, কমিশন তত বেশি পাবেন। এখানে যত বেশি কমিশন পাবেন, পুরোটাই আপনার। ফলে, ফুড ডেলিভারি কাজে বেতন নির্ভর করবে আপনি কত বেশি সময় যাবত কাজ করছেন তার উপর।

ফুড ডেলিভারিতে প্রতি ডেলিভারির উপর একটা কমিশন দেয়া হয়। এটাই আপনার বেতন। অর্থাৎ, প্রতিদিন বেশি পরিমাণে ফুড ডেলিভারি দিলে বেশি বেতন তুলতে পারবেন। এভাবে প্রতি মাসে ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকাও ইনকাম করা সম্ভব।

রোমানিয়া কৃষি কাজের বেতন কত

রোমানিয়া কৃষি কাজের বেতন অন্যান্য কাজের তুলনায় কম। যাদের কোনো কাজের দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা নেই, তারা রোমানিয়ার কৃষি কাজের ভিসা নিতে পারেন। সাধারণত ৫০০ থেকে ১,০০০ ইউরো অব্দি প্রতি মাসে ইনকাম করা যায়। কৃষি কাজে ওভারটাইম করার সুযোগ থাকলে বেতন আরও বেশি পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, কৃষি কাজ করে রোমানিয়াতে প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অব্দি ইনকাম করা সম্ভব। এছাড়া, ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পেলে বেতনও বৃদ্ধি পায়।

রোমানিয়া রেস্টুরেন্ট কর্মীর বেতন কত

রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন পদে কাজের জন্য রোমানিয়ার ভিসা নেয়া যায়। তবে, যেসব পদে কাজ করলে কাস্টমারের সাথে কথা বলতে হয়, সেসব পদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট নিতে হলে ইংরেজি ভাষা জানা থাকতে হয়। তবে, কিচেনে বা শেফ হিসেবে কাজ করলে রেস্টুরেন্টে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৭০০ ইউরো ইনকাম করা যায়। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা।

এছাড়াও পড়ুন —

রোমানিয়া কন্সট্রাকশন শ্রমিকের বেতন কত

রোমানিয়াতে কন্সট্রাকশন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে প্রতি মাসে ৬৫০ থেকে ৯০০ ইউরো অব্দি উপার্জন করা যায়। কন্সট্রাকশন কাজে দক্ষতা থাকতে হয়। কাজের দক্ষতা থাকলে প্রতি মাসে ১ হাজার ইউরো অব্দি ইনকাম করা যায়। এক্ষেত্রে, কন্সট্রাকশন কাজে বাংলাদেশি টাকায় ৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা অব্দি ইনকাম করা যায়।

রোমানিয়ার গার্মেন্টস ভিসার বেতন কত

রোমানিয়ার গার্মেন্টস ভিসার বেতন ৬০০ থেকে ৯০০ ইউরো অব্দি হয়ে থাকে। যা বাংলাদেশি টাকায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা কিংবা তার বেশি হয়ে থাকে। গার্মেন্টস ভিসায় সাধারণত দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়না। তবে, কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে শুরুতেই বেশি বেতনে জয়েন করা যায়।

শেষ কথা

রোমানিয়া যেতে চাচ্ছেন কিন্তু রোমানিয়া কাজের বেতন কত টাকা জানেন না বা রোমানিয়াতে কোন কাজের বেতন কত টাকা জানেন না। ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করার পূর্বে অবশ্যই বেতন যেতে নিতে হবে। নয়তো, বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে দালাল কিংবা ভিসা এজেন্সি টাকা হাতিয়ে নিবে। তাই, যারা রোমানিয়া যেতে চাচ্ছেন, তারা শুরু থেকে শেষ অব্দি পড়লে বেতন সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এছাড়াও, আপনার মনে প্রশ্ন থাকলে নিচের প্রশ্নোত্তর সেকশনটি দেখুন এবং কমেন্টে আপনার মতামত জানাতে পারেন।

বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর

রোমানিয়ায় কোন কাজের বেতন সবচেয়ে বেশি?

রোমানিয়ায় আইটি সেক্টর এবং অয়েল ও পেট্রলিয়াম সেক্টরে বেশি বেতন পাওয়া যায়। তবে, বাংলাদেশ থেকে দক্ষতা ছাড়া রোমানিয়া গেলে কন্সট্রাকশন কাজ এবং ওয়েল্ডিং কাজে বেশি বেতন পাওয়া যায়।

রোমানিয়ার বেসিক বেতন কত ২০২৬?

রোমানিয়ার বেসিক বেতন ৫০০ থেকে ৫৫০ ইউরো হয়ে থাকে। রোমানিয়াতে জাতীয় সর্বনিম্ন (বেসিক) মাসিক গ্রস বেতন ৪,৩২৫ রোমানিয়ান লেই দেয়া হয় যা কর বার দিয়ে মাস শেষে ৫০০ থেকে ৫৫০ ইউরো থাকে। তবে, কাজের দক্ষতার উপর ভিত্তি করে বেতন আরও বেশি হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া যেতে কত টাকা খরচ হয়?

বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া যেতে ৮ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকা অব্দি খরচ হয়। ভিসা এজেন্সিভেদে খরচ আরও বেশি হতে পারে। এছাড়া, দালালের সহযোগিতা নিলে খরচ আরও বেশি হয়।

বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া যাওয়ার উপায় কী?

বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া যাওয়ার উপায় হলো বাংলাদেশের সরকারি সংস্থা বোয়েসেল এর মাধ্যমে কিংবা বেসরকারি ভিসা এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা আবেদন করা। ওয়ার্ক পারমিট পেলে সেটি দিয়ে ভিসা আবেদন করে রোমানিয়া যেতে পারবেন।

অন্যান্য পোস্টগুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *