জাপান যেতে কত টাকা ও কি কি যোগ্যতা লাগে ২০২৬ (আজকের আপডেট)
জাপান যেতে চাচ্ছেন কিন্তু জাপান যেতে কত টাকা লাগে এবং জাপান যেতে কি কি যোগ্যতা লাগে জানেন না? এই তথ্যগুলো বিস্তারিত জানতে পারবেন এখানে।
জাপান কাজের ভিসা এবং স্টুডেন্ট ভিসা সহ আরও অনেক ভিসা নিয়ে যাওয়া যায়। অনেকেই ভিজিট ভিসায় জাপান গিয়ে থাকেন। তবে, টাকা উপার্জনের জন্য অনেকেই জাপানে যেতে চান। সেক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে জাপান যেতে হয়।
তাই, যারা জাপান যেতে চাচ্ছেন কিন্তু জাপান যেতে কত টাকা খরচ হয় জানেন না, তারা শেষ অব্দি পড়ুন। তাহলে বিস্তারিত খরচ সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু
জাপান যেতে কত টাকা লাগে
ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় জাপান যেতে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা এবং স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যেতে ১২ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা অব্দি লেগে থাকে। এই খরচের কিছুটা হেরফের হবে আপনি কীভাবে ভিসা আবেদন করছেন তার উপর। তবে, জাপান যাওয়ার খরচ বর্তমানে কিছুটা বেশি।
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কিংবা স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যেতে হলে টিকেট বুকিং দিতে হয়, জাপানে বাসা ভাড়া নিয়ে সেটির ডকুমেন্ট দেখাতে হয় এবং ব্যাংকে টাকা জমা রেখে সেটির স্টেটমেন্ট সহ বেশ কিছু কাগজপত্র দিতে হয়, যেখানে অনেক খরচ হয়।
তাই, জাপান যেতে সাধারণত ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা অব্দি লেগে থাকে।
জাপান যেতে কি কি যোগ্যতা লাগে
জাপান যেতে হলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লাগবে এবং ভিসা আবেদন করার জন্য যোগ্যতা থাকতে হবে। কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং যোগ্যতাসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হয়েছে।
সব ধরণের ভিসার জন্য প্রয়োজনীয়
যেকোনো ধরণের ভিসা আবেদন করতে হলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মানতে হবে। স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কিংবা অন্যান্য ভিসার ক্ষেত্রে এগুলো প্রযোজ্য।
- ন্যূনতম ১৮ বছর।
- ন্যূনতম ৬ মাসের মেয়াদসহ আসল পাসপোর্ট।
- জাপানি ভাষার দক্ষতা (ভিসাভেদে NAT, JLPT, বা JFT পরীক্ষার সনদ)।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না)।
- শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থতার মেডিকেল সার্টিফিকেট।
স্টুডেন্ট ভিসার জন্য যা যা লাগে
জাপান স্টুডেন্ট ভিসার জন্য যেসব বিষয় প্রয়োজন হবে সেগুলো নিম্নবর্ণিত। বিভিন্ন কাগজপত্র, পড়ালেখার যোগ্যতা এবং আর্থিক যোগ্যতার প্রামান্যপত্র জমা দিয়ে তবেই ভিসা আবেদন করা যায়।
- ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমানের পাস।
- ন্যূনতম JLPT N5 বা NAT 5-কোর্স পাসের সনদ।
- স্পন্সরের বার্ষিক আয়ের উৎস এবং ব্যাংকে ২০–২৫ লাখ টাকার Bank Solvency ।
- সকল একাডেমিক সার্টিফিকেট, মার্কশিট, চারিত্রিক সনদ এবং ছবি।
- জাপানি স্কুল থেকে পাঠানো মূল সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি।
কাজের ভিসার জন্য যা যা লাগে
যারা জাপানে কাজের ভিসায় যেতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই প্রয়োজন হবে। এগুলো থাকলে তবেই ভিসা আবেদন করতে পারবেন।
- ন্যূনতম JLPT N4 অথবা JFT-Basic A2 পরীক্ষায় পাস।
- নির্দিষ্ট কাজের ওপর স্কিল অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট পাসের সনদ।
- সাধারণত নির্দিষ্ট করে বলা নেই, তবে এসএসসি পাস হলে ভালো হয়।
- কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা বা ট্রেনিং সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
এছাড়াও অন্যান্য ভিসার ক্ষেত্রে আলাদা যোগ্যতার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
এছাড়াও পড়ুন –
জাপান যাওয়ার সহজ উপায়
জাপান যাওয়ার সহজ উপায় হলো কাজের ভিসা কিংবা স্টুডেন্ট ভিসা। স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যেতে বেশি পরিমাণ টাকা প্রয়োজন হয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সহ অন্যান্য অনেক বিষয় প্রয়োজন হয়। তবে, কাজের ভিসার ক্ষেত্রে জাপানের যেকোনো রিক্রুটিং কোম্পানি দ্বারা যে কোম্পানিতে কাজের উদ্দেশ্যে যাবেন, সেটির ওয়ার্ক পারমিট প্রয়োজন হবে।
ওয়ার্ক পারমিট পেলে জাপানের কাজের ভিসা আবেদন করা সহজ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে কোম্পানির সহযোগিতায় সহজেই ভিসা পেয়ে যাবেন। তাই, জাপান যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নেয়ার চেষ্টা করুন।
বাংলাদেশ থেকে কিভাবে জাপান যাওয়া যায়?
বাংলাদেশ থেকে জাপান যেতে চাইলে ভালো একটি ভিসা এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং ভিসা আবেদন করতে হবে। স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যেতে চাচ্ছেন নাকি কাজের ভিসায়, সে অনুযায়ী খরচ কম বা বেশি হবে। কয়েকটি এজেন্সি যাচাই করে অল্প টাকার মাঝে জাপান যেতে পারবেন।
জাপান যাওয়ার জন্য কোন ভিসায় যেতে চান সেটি নির্ধারণ করতে হবে। অতঃপর, ভাষা শিক্ষার কোর্স করতে হবে এবং জাপানি ভাষার N5 বা N4 লেভেল পাস করতে হবে। কাজের ভিসার ক্ষেত্রে স্কিল টেস্ট দিতে হবে অর্থাৎ কাজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে এবং স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে পরীক্ষার সনদপত্র সহ অন্যান্য কাগজপত্র লাগবে।
এছাড়া প্লেনের টিকেট কাটতে হবে এবং জাপানে বাসা ভাড়া নিয়ে সেটির কাগজপত্র, কাজের ভিসার ক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিট প্রয়োজন হবে। এগুলো সঙ্গে নিয়ে ভিসা আবেদন করে বাংলাদেশ থেকে জাপান যেতে পারবেন।
সরকারি ভাবে জাপান যেতে কত টাকা লাগে
সরকারিভাবে জাপান সম্পূর্ণ ফ্রিতেই যেতে পারবেন তবে জাপানি ভাষা জানা থাকতে হবে। তবে, জাপান যাওয়ার জন্য ভিসা প্রসেসিং সহ অন্যান্য কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা অব্দি লাগতে পারে। তবে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থ উপদেষ্টার বার্তা অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের মাঝে বাংলাদেশ থেকে জাপানে ১ লাখ কর্মী পাঠানো সম্ভব, যদি তাদের জাপানি ভাষা শেখা থাকে।
জাপানে কোন কাজের চাহিদা বেশি
বর্তমানে জাপানে নিম্নোক্ত ক্যাটাগরির কাজগুলোর জন্য বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশ থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আপনার যদি জাপানি ভাষা শেখা থাকে, তবে সরকারিভাবে কিংবা এজেন্সির সহযোগিতা নিয়ে এসব কাজের জন্য ভিসা আবেদন করতে পারবেন।
- বিমানবন্দর পরিচালনা ও উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ (এভিয়েশন)
- যানবাহনের বডি পেইন্টিং (কার পেইন্টিং)
- মৎস্য সম্পদ ও সামুদ্রিক খাত
- জাহাজ নির্মাণশিল্প
- বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম তৈরি
- কাঁচামাল ও ম্যাটেরিয়ালস প্রসেসিং
- রেস্তোরাঁ ও সাধারণ সেবা খাত
- খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন শিল্প
- কৃষি ও খামার ব্যবস্থাপনা
- বাণিজ্যিক ভবন ও আঙিনা পরিচ্ছন্নতা (বিল্ডিং ক্লিনিং)
- অবকাঠামো উন্নয়ন ও কনস্ট্রাকশন
তবে, কেয়ারগিভিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং (যেখানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন বা TI পদে চাহিদা বেশি), ওয়েল্ডিং এবং অটোমোটিভ মেরামত ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতে সবথেকে বেশি চাহিদা রয়েছে এবং জাপান থেকে এসব কাজে বেশি পরিমাণে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
সারকথা
জাপান যেতে কত টাকা লাগে, জাপান যেতে কি কি যোগ্যতা লাগে এবং জাপান স্টুডেন্ট ভিসা ও কাজের ভিসা সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলোচনা করা হয়েছে এখানে। এছাড়াও নিচের প্রশ্নোত্তর সেকশন থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবেন।
বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর
জাপান যেতে কত টাকা লাগে স্টুডেন্ট ভিসায়?
স্টুডেন্ট ভিসায় জাপান যেতে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া Bank Solvency প্রয়োজন হবে।
জাপান যেতে কত টাকা লাগে কাজের ভিসায়?
জাপানে কাজের ভিসায় যেতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়ে থাকে। এজেন্সিভেদে জাপান যাওয়ার খরচ কমবেশি হতে পারে।
জাপান যেতে কত বছর বয়স লাগে?
জাপান যেতে ভিসা আবেদন করার সময় প্রার্থীর বয়স ১৮ বছর কিংবা তদূর্ধ্ব হতে হবে। স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রামান্যপত্র লাগবে। এছাড়া ১৮ বছর বা তার বেশি হলে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্যও আবেদন করা যায়।
২০২৬ সালে সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার উপায় কী?
২০২৬ সালে সরকারিভাবে ফ্রিতেই জাপান যেতে পারবেন, যদি জাপানি ভাষা শেখা থাকে। শুধুমাত্র জাপানি ভাষা জানা থাকলেই সরকারের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাসের মাঝে জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানো হবে।
জাপান ১ ঘন্টা কাজ করলে কত টাকা দেয়?
জাপানে ১ ঘণ্টা কাজ করলে ১,০০০ থেকে ১,১০০ ইয়েন পর্যন্ত দেয় যা বাংলাদেশি টাকায় ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা অব্দি হয়।




