ইউরোপের কোন দেশে যেতে কত টাকা লাগে ২০২৬ (আজকের আপডেট)

ইউরোপ যাওয়ার ইচ্ছে আছে কিন্তু ইউরোপের কোন দেশে যেতে কত টাকা লাগে জানেন না? বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার খরচ কত টাকা জানতে পারবেন এখানে।

বাংলাদেশ থেকে অনেকেই ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় ইউরোপ যেতে চান। কিন্তু, ইউরোপ যেতে হলে ওয়ার্ক পারমিট লাগবে এবং ভিসা করা লাগবে। এছাড়াও আরও খরচ রয়েছে। তাই, যারা ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক, তাদের মাঝে সবথেকে এই প্রশ্নটি বেশি দেখা যায় যে, “ইউরোপ যেতে কত টাকা লাগে” ।

তো চলুন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেতে কত টাকা লাগে, কম খরচে কোন দেশে যাওয়া যায় এবং ইউরোপের কোন দেশে বেশি টাকা ইনকাম করা যায় এসব বিষয় নিয়ে আরও বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

ইউরোপের কোন দেশে যেতে কত টাকা লাগে

ইউরোপ যেতে হলে খরচের পরিমাণ নির্ভর করবে আপনি কোন মাধ্যমে আবেদন করছেন তার উপর। দালাল ধরে ইউরোপ যেতে চাইলে খরচ অবশ্যই বেশি লাগবে। আবার সরকারিভাবে আবেদন করার মাধ্যমে ইউরোপ যেতে অনেক কম খরচ লাগবে।

সরকারি বিভিন্ন সংস্থা যেমন বোয়েসেল, বিএমইটি এর মাধ্যমে আবেদন করে কম খরচে ইউরোপ যেতে পারবেন। এছাড়া, বেসরকারি সংস্থা ভিএফএস গ্লোবাল এর মাধ্যমে আবেদন করে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সহ স্টুডেন্ট ভিসা কিংবা ট্রাভেল ভিসায় ইউরোপ যেতে পারবেন।

ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় ইউরোপ যেতে খরচ বেশি পড়ে। আবার, স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে অফার লেটার থাকলে খুব কম খরচেই ইউরোপ যেতে পারবেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেতে কত টাকা খরচ লাগবে তা নিচে একটি টেবিলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে –

দেশওয়ার্ক পারমিট ভিসাস্টুডেন্ট ভিসাট্রাভেল/ট্যুরিস্ট ভিসা
ইতালি৮–১৫ লাখ৩–৬ লাখ১.৫–৩ লাখ
রোমানিয়া৪–৮ লাখ৩–৫ লাখ১–২ লাখ
পোল্যান্ড৪–১৫ লাখ৪–৫ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
সার্বিয়া৬–১১ লাখ৩–৫ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
পর্তুগাল৩–৬ লাখ৩–৫ লাখ১–১.৭ লাখ
জার্মানি১.৫–৪ লাখ৩–৬ লাখ১–১.৬ লাখ
ফ্রান্স২–৫ লাখ৪–৭ লাখ১–১.৫ লাখ
যুক্তরাজ্য (UK)৩–৬ লাখ৫–৯ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
গ্রিস৩–৬ লাখ৩–৫ লাখ১–২ লাখ
ক্রোয়েশিয়া৫–১০ লাখ৩–৫ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
হাঙ্গেরি৪–১৪ লাখ*৪–৫ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
বুলগেরিয়া৪–৮ লাখ৪–৫ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
স্পেন৫–১২ লাখ৫–৭ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
নেদারল্যান্ডস৫–১২ লাখ৫–৮ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
অস্ট্রিয়া৫–১২ লাখ৫–৭ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
বেলজিয়াম৫–১২ লাখ৫–৭ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
সুইজারল্যান্ড৬–১৫ লাখ৫–১০ লাখ২–৩ লাখ
আয়ারল্যান্ড৪–৮ লাখ৫–৮ লাখ১.৫–২.৫ লাখ
লিথুয়ানিয়া৩–৬ লাখ৪–৫ লাখ১–২ লাখ
লাটভিয়া৩–৬ লাখ৪–৫ লাখ১–২ লাখ
এস্তোনিয়া৩–৬ লাখ৪–৫ লাখ১–২ লাখ
চেক প্রজাতন্ত্র৪–৭ লাখ৪–৬ লাখ১–২ লাখ
স্লোভাকিয়া৪–৭ লাখ৪–৬ লাখ১–২ লাখ
সাইপ্রাস৪–৭ লাখ৪–৬ লাখ১–২ লাখ

দালাল না ধরে এজেন্সি থেকে ভিসা আবেদন করলে খরচ কম পড়বে। এছাড়া, আপনি নিজে ভিসা আবেদন করতে পারলে অনেক কম খরচেই ইউরোপ যেতে পারবেন। তবে, ভিসা আবেদন করার সময় উক্ত দেশের ভিসা চালু আছে কিনা তা জেনে নেয়ার চেষ্টা করুন।

ইউরোপ যাওয়ার সহজ উপায়

ইউরোপ যাওয়ার সহজ উপায় হলো সরকারিভাবে ভিসা আবেদন করা। ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করা থাকলে তা দিয়ে খুব সহজেই ভিসা আবেদন করতে পারবেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ভিসা পাওয়ার তুলনায় ইউরোপের দেশগুলোর ভিসা পাওয়া কিছুটা কঠিন এবং অধিক খরচ হয়ে থাকে।

তবে, অনেকেই ইউরোপের বিভিন্ন ভালো দেশে যাওয়ার জন্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে পাড়ি দেন। এতে অনেক হতাহতের খবর পাওয়া যায়। তাই, ইউরোপ যেতে চাইলে সরকারিভাবে কিংবা যেকোনো এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা আবেদন করুন।

সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি যেমন বোয়েসেল, বিএমইটি থেকে ইউরোপের অনেক দেশের ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় লোক পাঠানো হয়। এই ধরনের সুযোগ আসলে ভিসা আবেদন করুন। অথবা, যেকোনো এজেন্সি কিংবা ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে ভিসা আবেদন করুন।

ভিসা ক্যাটাগরির মাঝে ট্রাভেল/ট্যুরিস্ট ভিসায় ইউরোপ যাওয়া অনেক সহজ। অতঃপর স্টুডেন্ট ভিসা এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিট পেলে সহজেই ইউরোপ যেতে পারবেন।

অন্যান্য দেশের ভিসা আপডেট:

কম টাকায় ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়

ইউরোপে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে খুব কম খরচে যেতে পারবেন। এদের মাঝে জার্মানি, পর্তুগাল, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, সাইপ্রাস, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া সহ অন্যান্য দেশ অন্যতম। এসব দেশে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে খুব কম খরচেই যেতে পারবেন এবং প্রতি মাসে ভালো পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

অনেকেই কম খরচে ইউরোপ যাওয়ার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করে থাকেন। তবে, স্টুডেন্ট ভিসায় ইউরোপ যাওয়ার পর পড়ালেখা ছেড়ে শুধু টাকা উপার্জনের জন্য কাজ করলে ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই, যারা ইউরোপে স্টুডেন্ট ভিসায় যাচ্ছেন বা যেতে চাচ্ছেন তারা পড়ালেখার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করতে পারেন।

তবে, ট্রাভেল ভিসা বা ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ থাকে। এই ভিসায় ইউরোপ গিয়ে কাজ খোঁজা বা কাজ করা উচিত না। মেয়াদ পেড়িয়ে গেলেও দেশ না ছাড়লে কিংবা কাজ করার প্রমাণ পেলে জেল-জরিমানা হতে পারে।

দালাল ধরে ইউরোপ যাওয়া/সমুদ্রপথে অন্য দেশ যাওয়া/অধিক টাকা উপার্জনের আশায় ইউরোপ আসা খুবই বিপজ্জনক হতে পারে। তাই, সার্বিক বিষয় যাচাই-বাছাই করে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।

ইউরোপের কোন দেশের ভিসা পাওয়া সহজ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ রয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। শেনজেন ভুক্ত দেশ এবগ্ন শেনজেন মুক্ত দেশ। শেনজেন এর অধীনে ২৭টি দেশ রয়েছে। এগুলোর যেকোনো একটি ভিসা পেলে বাকি ২৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন খুব সহজেই। তবে, ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে শুধু একটি দেশেই কাজ করা যাবে।

রোমানিয়া, পর্তুগাল, বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, সাইপ্রাস ইত্যাদি দেশের ভিসা পাওয়া অনেক সহজ। সরকারিভাবে এবং বিভিন্ন এজেন্সির সহযোগিতা নিয়ে খুব সহজেই এসব দেশের ভিসা আবেদন করতে পারবেন এবং ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন।

সারকথা

ইউরোপের কোন দেশে যেতে কত টাকা খরচ হয় বা কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এখানে। যারা ইউরোপ যেতে চাচ্ছেন কিন্তু কোন দেশে কম খরচে যেতে পারবেন এবং ভালো পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারবেন জানেন না, তারা এটি সম্পূর্ণ পড়লে বিস্তর ধারণা পাবেন। এছাড়া, নিচের প্রশ্নোত্তর সেকশনটি থেকে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়ে যাবেন।

বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর

ইউরোপের কোন দেশে গেলে ভালো হবে?

ইউরোপের মাঝে ইতালি, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেইন ইত্যাদি দেশগুলোতে কাজ করে অধিক টাকা উপার্জন করা যায়। ইউরোপ যেতে চাইলে এসব দেশের ভিসা আবেদন করতে পারেন।

কম বাজেটে ইউরোপ ভ্রমণের উপায়?

কম বাজেটে ইউরোপ ভ্রমণ করতে চাইলে শেনজেন ভিসা আবেদন করুন। এতে করে ২৭টি দেশে একটি ভিসা দিয়েই ভ্রমণ করতে পারবেন।

কম খরচে ইউরোপ ভিসা পাওয়ার উপায় কোনটি?

কম খরচে ইউরোপ ভিসা পাওয়ার উপায় হলো শেনজেন ভিসা বা ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন করা। এছাড়া স্টুডেন্ট ভিসাও খুব সহজেই পাওয়া যায়।

সবচেয়ে কম খরচে ইউরোপ যাওয়ার মাস কোনটি?

ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে বিমানের টিকেটের দাম কম থাকে। এই সময় ইউরোপ যেতে খুব কম খরচ হবে।

অন্যান্য পোস্টগুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *