বাংলাদেশ থেকে কম খরচে ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায় (আপডেট)
ইউরোপ যেতে চাচ্ছেন কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কম খরচে ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায় জানেন না? এখানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মাঝে কম খরচে যেসব দেশ যাওয়া যায়, সেগুলোর নাম এবং বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।
বাংলাদেশ থেকে অনেকেই ভালো টাকা উপার্জন করার উদ্দেশ্যে প্রবাস যায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তুলনায় ইউরোপের দেশগুলোতে প্রতি মাসে বেশি পরিমাণ টাকা উপার্জন করা যায়। কিন্তু, ইউরোপের দেশগুলোতে যেতে বেশি পরিমাণে টাকা খরচ করতে হয়।
তবে, ইউরোপের এমন কিছু দেশ আছে, যেগুলোতে বাংলাদেশ থেকে কম খরচে যাওয়া যায় এবং সেখানে প্রতি মাসে ভালো পরিমাণ টাকা উপার্জন করা যায়। তো চলুন, সেসব দেশের নাম এবং বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু
বাংলাদেশ থেকে কম খরচে ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
বাংলাদেশ থেকে পূর্ব ইউরোপ এবং মধ্য ইউরোপের দেশগুলোতে কম খরচে যাওয়া যায়। এসব দেশে সাধারণত অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় কম খরচে ভিসা পাওয়া যায়। পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলোর মাঝে রয়েছে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া ইত্যাদি।
এই দেশগুলোতে কৃষি, নির্মাণ ও রেস্তোরাঁ/হোটেল খাতে শ্রমিকের চাহিদা আছে। ফলে, এসব দেশে কম খরচে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাচ্ছে বিভিন্ন ভিসা এজেন্সি এবং বাংলাদেশের সরকারি সংস্থা বোয়েসেল। এছাড়া, রোমানিয়ার সাথে বাংলাদেশ সরকারের দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও আছে।
তাই, যারা কম খরচে ইউরোপে যেতে চাচ্ছেন, তারা এসব দেশের ভিসা করার চেষ্টা করতে পারে। খরচের দিক বিবেচনা করলে এসব দেশের ভিসা নিতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা অব্দি লেগে থাকে। ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ খরচ হয়।
তবে, বাংলাদেশ থেকে কম খরচে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ইউরোপের এই দেশগুলোতে যেতে চাইলে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা লাগতে পারে। আবার, স্টুডেন্ট ভিসা নিতে চাইলে ৪ লাখ টাকা থেকে ৭ লাখ টাকা অব্দি লাগতে পারে। তবে, খরচের পরিমাণ ভিসা এজেন্সির উপর নির্ভর করবে। খরচের পরিমাণ জানতে ইউরোপের কোন দেশে যেতে কত টাকা লাগে পোস্টটি পড়তে পারেন।
অনেক ভিসা এজেন্সি থেকে বেশি পরিমাণে টাকা নেয়া হয় কিন্তু জাল ভিসা বা ভিসা দিলেও ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট দেয়। ফলে, যারা এসব এজেন্সির পাল্লায় পড়ে, তারা ইউরোপ যেতে পারলেও যে কোম্পানির ওয়ার্ক পারমিট দিয়েছে, সেটির খোঁজ পাওয়া যায়না। তাই, ভিসা নেয়ার পূর্বে ভিসা এজেন্সি সম্পর্কে তথ্য যাচাই করে নিন, বোয়েসেল থেকে খোঁজ নিন এবং চারিদিকে যাচাই-বাছাই করে তবেই ভিসা করুন।
কম টাকায় ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়
কম টাকায় ইউরোপ যেতে চাইলে জার্মানি, পর্তুগাল, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, সাইপ্রাস, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া সহ বেশ কিছু দেশ রয়েছে। ইউরোপের এসব দেশের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিতে সাধারণত ৩ থেকে ৭ লাখ টাকা অব্দি খরচ হয়, যা ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় কম।
ইউরোপের যেকোনো দেশের ভিসা করার কথা শুনলেই মনে হয় ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার নিচে হবেনা। তবে, উপরে যে দেশগুলোর নাম দেয়া হয়েছে, এসব দেশের ভিসা নিতে চাইলে ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। এই খরচ সাধারণত ভিসা এজেন্সির উপর ভিত্তি করে থাকে।
কম খরচের কথা বলে অনেক সময় দালালরা টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকে। তাই, সাধারণের তুলনায় কেউ কমের মাঝে ইউরোপের ভিসা দিতে চাইলে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে তবেই লেনদেন করুন। অনেক প্রতারক চক্র এভাবে করে টাকা হাতিয়ে নেয়।
এছাড়াও পড়ুন —
- ইউরোপের সেনজেন ও নন সেনজেন ভুক্ত দেশের তালিকা
- ইউরোপের কোন দেশে বেতন বেশি
- ইউরোপের কোন কোন দেশের ভিসা চালু আছে
কম টাকায় ইউরোপে গেলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায়
ইউরোপের দেশগুলোতে স্বভাবতই বেশি বেতন পাওয়া যায়। তবে, যারা কম খরচে ভিসা করেন তারা যদি ভালো কাজের জন্য ওয়ার্ক পারমিট নিতে পারেন, তবে ইউরোপে গিয়ে ভালো বেতনে কাজ করতে পারবেন। তাই, ভিসা আবেদন করার সময় ওয়ার্ক পারমিটটি অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে।
পূর্ব ইউরোপে সাধারণ বেতন মাসে মাত্র ২৫০-৪৫০ ইউরো অব্দি হয়ে থাকে। যা বাংলাদেশি টাকায় ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা অব্দি হয়ে থাকে। এই টাকার থেকে আবার ট্যাক্স কাটা হবে। তাই, ওয়ার্ক পারমিট দেয়ার সময় কেউ অনেক বেশি বেতনের প্রতিশ্রুতি দিলে তা যাচাই করা উচিত।
ওয়ার্ক পারমিট যাচাই-বাছাই না করলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক প্রতারক চক্র ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানির বাস্তব অস্তিত্বই থাকে না, ফলে ভিসা নিয়ে গিয়েও অবৈধ হয়ে পড়েন অনেকে।
সার্বিয়া, বসনিয়ার মতো নন-ইউরোপিয়ান দেশ থেকে “সহজে ইউরোপে ঢোকার রাস্তা” বলে যেসব প্যাকেজ বিক্রি হয়, সেগুলোতে বহু মানুষ সীমান্তে আটক হচ্ছেন বা পঙ্গু পর্যন্ত হচ্ছেন। তাই, অল্প টাকায় ইউরোপে যাওয়ার প্ল্যান শুনে সেসবে যাচাই না করেই পা বাড়ালে পরিণতি অনেক ভয়াবহ হতে পারে।
শেষ কথা
বাংলাদেশ থেকে কম খরচে ইউরোপের কোন কোন দেশে যাওয়া যায় এবং কম টাকায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেলে সেসব দেশে সাধারণত বেতন কত টাকা পাওয়া যায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই পোস্টে। যারা ইউরোপ যেতে চাচ্ছেন কিন্তু এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত নন, তারা শুরু থেকে শেষ অব্দি পড়ুন।
বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর
কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়?
কম খরচে ইউরোপের পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া এই দেশগুলোতে যাওয়া যায়।
৫ লাখ টাকায় ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়?
৫ লাখ টাকায় ইউরোপের বেশ কিছু দেশের ভিসা করা সম্ভব। এগুলোর মাঝে লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া এবং হাঙ্গেরি অন্যতম।





