মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে ২০২৬? এক মাসের বেতন কত (আপডেট)

মাল্টা যেতে চাচ্ছেন কিন্তু মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে এবং মাল্টা কাজের ভিসায় এক মাসের বেতন কত টাকা জানেন না? এই তথ্যগুলো বিস্তারিত জানতে পারবেন এখানে।

ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে মাল্টা যাওয়া যায় এবং এখানে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে টাকা উপার্জন করা যায়। সাধারণত মাল্টায় কন্সট্রাকশন কাজ, ইলেকট্রিক কাজ, কারখানার কাজ সহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এসব কাজের জন্য বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে।

আপনি যদি মাল্টা যেতে চান, তবে মাল্টায় কোন কাজের চাহিদা বেশি, কোন কাজের বেতন কত টাকা এবং মাল্টা ভিসা করতে কত টাকা লাগবে জানতে শেষ অব্দি পড়ুন।

মাল্টা কাজের ভিসা একমাসের বেতন কত

মাল্টায় বিভিন্ন পদে কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। কাজের ধরণের উপর ভিত্তি করে মাল্টায় প্রতি মাসের বেতন নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশ থেকে মাল্টায় কর্মী হিসেবে কাজের ভিসায় গেলে সাধারণত হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, কনস্ট্রাকশন, ডেলিভারি এবং ক্লিনিং সেক্টরে সবচেয়ে বেশি কাজ পাওয়া যায়।

মাল্টায় সাধারণ কর্মীদের বেসিক বেতন সাধারণত প্রতি মাসে ১,২০০ ইউরো যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১,৬০,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়। তবে ওভারটাইম করলে বেতন আরও বৃদ্ধি পায়। এছাড়া বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ধরণের বেতন পাওয়া যায়। কোন কাজের জন্য কত টাকা বেতন পাওয়া যায় তা নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

মাল্টা রেস্টুরেন্ট ভিসায় বেতন কত টাকা

মাল্টাতে রেস্টুরেন্ট ভিসা বা হোটেল কর্মী হিসেবে কাজ করে প্রতি মাসে ১,০০০ ইউরো থেকে ১,৪০০ ইউরো পর্যন্ত বেতন পাওয়া যায়। যা বাংলাদেশি টাকায় ১,৪০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,০০,০০০ টাকা অব্দি হয়ে থাকে। তবে, হোটেল কর্মী হিসেবে কাজ করলে টিপস পাওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে, প্রতিমাসে ২ লাখ টাকার বেশি বেতন পাওয়া যায়।

মাল্টা কন্সট্রাকশন কাজের বেতন কত

মাল্টায় কন্সট্রাকশন কাজের বেতন প্রতি মাসে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা অব্দি হয়ে থাকে। কন্সট্রাকশন কাজে প্রতি মাসে রেগুলার কাজ করার পাশাপাশি ওভারটাইম করার সুযোগ থাকে। ফলে, ২ লাখ ৪০ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অব্দি প্রতি মাসে উপার্জন করা যায়।

তবে, কাজের উপর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে বেশি বেতন পাওয়া যায়। এছাড়া, সময়ের সাথে প্রোমোশন পাওয়া যায় এবং এর সাথে বেতন বৃদ্ধি পায়।

মাল্টায় ড্রাইভার ভিসায় বেতন কত টাকা

মাল্টায় ড্রাইভার ভিসায় গিয়ে প্রাইভেট কার, কোম্পানির গাড়ি, ভারী ট্রাক চালিয়ে প্রতি মাসে ১,১০০ থেকে ১,৫০০ ইউরো অব্দি উপার্জন করা যায়। এছাড়া, গাড়ি চালাতে পারলে এবং ফুড ডেলিভারি করতে পারলে ১১০০ ইউরো থেকে শুরু করে যত বেশি ডেলিভারি দিবেন তত বেশি বেতন পাওয়া যায়।

সাধারণত ড্রাইভার ভিসায় মাল্টা যেতে চাইলে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হয়। বাংলাদেশে থাকতে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হবে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

মাল্টায় ক্লিনিং ও সিকিউরিটি গার্ড ভিসায় বেতন কত

মাল্টা গিয়ে বিভিন্ন হোটেল বা রেস্টুরেন্টের ক্লিনিং কাজ বা সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এসব কাজে ১,০০০ থেকে ১,৩০০ ইউরো অব্দি প্রতি মাসে ইনকাম করা যায়। যা বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা অব্দি হয়ে থাকে।

ক্লিনিং কাজ এবং সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়না। তাই, এসব কাজের ভিসা নিয়ে মাল্টা যাওয়া খুবই সহজ।

মাল্টায় যেকোনো কাজের ভিসায় গেলে প্রতি সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। তবে, ছুটির দিনে ওভারটাইম করলে প্রতি মাসে বেশি বেতন পাওয়া যায়। তাই, বাংলাদেশ থেকে কর্মী হিসেবে গেলে অনেকেই ওভারটাইম করে থাকেন।

এছাড়াও পড়ুন —

মাল্টা কোন কাজের চাহিদা বেশি

মাল্টায় বর্তমানে ইলেক্ট্রিশিয়ান, কন্সট্রাকশন, কারখানার কাজের চাহিদা সবথেকে বেশি। এছাড়া, টেকনিক্যাল কাজেরও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজ যেমন আইটি সেক্টর, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবা, ব্যাংকিং, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি কাজের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু, এসব কাজে বাংলাদেশ থেকে মাল্টায় গিয়ে চাকরি নিতে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে এবং এসব কাজের জন্য ডিগ্রি থাকতে হবে।

তাই, যারা বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসায় মাল্টা যেতে চাচ্ছেন, তারা ইলেক্ট্রিশিয়ান, কন্সট্রাকশন, কারখানা কর্মী, রেস্টুরেন্ট ও হোটেল কর্মী, ক্লিনার ও সিকিউরিটি গার্ড ইত্যাদি কাজের জন্য ভিসা করতে পারেন।

মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে ২০২৬

মাল্টা যেতে কাজের ভিসা করার সময় ৩ লক্ষ টাকা থেকে ৮ লক্ষ টাকা অব্দি লেগে থাকে। নিজে মাল্টা কাজের ভিসার জন্য আবেদন করলে ৩ লক্ষ টাকা থেকে ৪ লক্ষ টাকার মাঝে ভিসা পাওয়া যায় এবং মাল্টা যাওয়া যায়। তবে, ভিসা এজেন্সির সহযোগিতা নিয়ে ভিসা আবেদন করলে এবং অন্যান্য খরচ সহ ৬ লক্ষ টাকা থেকে ৮ লক্ষ টাকা অব্দি লাগতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে এই খরচ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

নিজে মাল্টা কাজের ভিসা আবেদন করলে আইডেন্টিটি মাল্টা ফি, স্কিল পাস, প্রি-ডিপার্চার টেস্ট, VFS গ্লোবাল ভিসা ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফি, বিমান টিকিট ইত্যাদির পিছনে খরচ করতে হবে। এসবের জন্য ৩ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা লাগবে। তবে, সময়ের সাথে সাথে এই খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

শেষ কথা

মাল্টা কাজের ভিসায় এক মাসের বেতন কত টাকা, মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে, মাল্টায় কোন কাজের চাহিদা বেশি — এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই পোস্টে। যারা মাল্টা যেতে চাচ্ছেন কিন্তু ভিসা খরচ, কাজের বেতন সম্পর্কে কিছু জানেন না, তারা পোস্টটি শুরু থেকে শেষ অব্দি পড়ুন।

এছাড়াও আপনার মনে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচের প্রশ্নোত্তর সেকশন দেখুন অথবা কমেন্ট করুন।

বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশ থেকে মাল্টা যেতে কত টাকা খরচ হয়?

বাংলাদেশ থেকে মাল্টা যেতে ৪ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা অব্দি খরচ হয়। নিজে ভিসা আবেদন করলে খরচ কম হয়। ভিসা এজেন্সি বা দালালের সহযোগিতা নিলে বেশি খরচ পড়ে।

মাল্টা সর্বনিম্ন বেতন কত ২০২৬?

মাল্টাতে সর্বনিম্ন ১০০০ ইউরো বা বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া যায়। কাজের দক্ষতার উপর নির্ভর করে বেতন কম বা বেশি হয়ে থাকে।

মাল্টা স্টুডেন্ট ভিসা পেতে কত খরচ হয়?

মাল্টা স্টুডেন্ট ভিসা পেতে ১ লাখ থেকে ১.৫ লাখ টাকা খরচ হয়। স্টুডেন্ট ভিসায় মাল্টা যেতে ২ লাখ টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়।

মাল্টায় কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি?

মাল্টায় ইলেক্ট্রিশিয়ান, কন্সট্রাকশন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব কাজে প্রতি মাসে ১৩০০ থেকে ১৬০০ ইউরো অব্দি ইনকাম করা যায় এবং ওভারটাইম করার সুযোগ থাকে।

মাল্টা থেকে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?

মাল্টা একটি শেনজেনভুক্ত দেশ। মাল্টা গেলে শেনজেনভুক্ত বাকি সবগুলো দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।

মাল্টায় থাকা এবং খাওয়ার খরচ কেমন?

মাল্টায় থাকা এবং খাওয়ার খরচ সাধারণত ৩০০ থেকে ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হয়। তবে, একা থাকলে এবং বাইরে খেতে চাইলে খরচ আরও বৃদ্ধি পায়।

মাল্টা কি সেনজেন ভুক্ত দেশ?

হ্যাঁ, মাল্টা একটি সেনজেন ভুক্ত দেশ।

মাল্টা থেকে ইতালি যাওয়ার উপায় কী?

বিমান বা ফেরিতে করে মাল্টা থেকে ইতালি যেতে পারবেন।

অন্যান্য পোস্টগুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *